ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি রফতানি বাবদ ১ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি ডলার (বর্তমান মূল্যমানে) আয় করেছে রাশিয়া। এ আয়ের অর্ধেক এসেছে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে, এর পরই ভারতের অবস্থান। খবর দ্য হিন্দু।
ফিনল্যান্ডভিত্তিক সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে গত ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় চার বছরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা রফতানি বাবদ রাশিয়া এ অর্থ আয় করেছে। আয়ের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও জ্বালানি তেলজাত পণ্য এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে ও এলএনজি আকারে পরিবাহিত প্রাকৃতিক গ্যাস।
রুশ জীবাশ্ম জ্বালানির বড় ক্রেতা হিসেবে এ সময় প্রায় ৩৪ হাজার ৩৭৬ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে চীন, যা এ বাবদ রাশিয়ার মোট আয়ের প্রায় ২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার জ্বালানি তেল, প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলার কয়লা এবং ৪ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার এলএনজি ক্রয়ে ব্যয় করেছে বেইজিং।
জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসায় রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার ইইউর হিস্যা ছিল প্রায় ২১ দশমিক ৮১ শতাংশ বা ২৫ হাজার ৫২১ কোটি ডলার। এর মধ্যে জ্বালানি তেলে ১২ হাজার ৩২৩ কোটি, এলএনজির জন্য ১২ হাজার ৬৫৪ কোটি ও কয়লার জন্য ৪১০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে।
চীন ও ইইউ সম্মিলিতভাবে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি রফতানি আয়ের ৫১ শতাংশের বেশি দখল করছে। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে সমুদ্রপথে শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ ভারত খরচ করেছে প্রায় ১৯ হাজার কোটি ডলার, যা জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে রাশিয়ার সামগ্রিক আয়ের প্রায় ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার মূল্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার মূল্যের কয়লা।
সিআরইএ বলছে, রাশিয়ার রফতানি বাণিজ্য বাড়ার কারণ হলো জ্বালানি তেলের বাজার সম্প্রসারণ, পরিচয় লুকিয়ে চলাচল করা শ্যাডো ফ্লিটের আকার বৃদ্ধি এবং ইইউ মিত্রদের কাছে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ।
ইউক্রেনে আক্রমণের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর কয়েক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পশ্চিমা। এর পর থেকে জ্বালানি পণ্যের দাম ছাড় দিয়ে আসছে মস্কো। সিআরইএ বলছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা দেশগুলোও রাশিয়ার আয় বাড়াচ্ছে। কারণ রুশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল থেকে তৈরি পণ্য দেশগুলোয় প্রবেশ করছে। বর্তমানে পাঁচ শতাধিক শ্যাডো ট্যাংকার বিশ্বজুড়ে রুশ জ্বালানি তেল পরিবহন করছে।